University of Barishal

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

শের-ই-বাংলার আদর্শ ও সততা অনুসরণ করে দেশ গঠনের আহ্বান ববি ভিসির

Published: 26-10-2026

latest news

“শের-ই-বাংলার আদর্শ ও সততা অনুসরণ করে দেশ গঠনের আহ্বান ববি ভিসির”

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় , ২৬ অক্টোবর ২০২৬।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হকের ১৫৩তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরে বাংলা হলের উদ্যোগে ২৬ অক্টোবর (সোমবার) বিকাল ৪ টা ৩০ মিনিটে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ মামুন অর রশিদ। শেরে বাংলা হলের প্রাধ্যক্ষ ড. আবদুল আলিম বছিররের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী শোয়েবুর রহমান। সহকারী রেজিস্ট্রার হাবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আলমগীর মোল্লা এবং মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সোহানুর রহমান সিফাত।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ মামুন অর রশিদ বলেন, তৎকালীন চরম প্রতিকূল পরিবেশ ও অজস্র বাধা পেরিয়ে উপমহাদেশের অবিসংবাদিত জননেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক। তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, আত্মত্যাগ, নির্লোভ মানসিকতা এবং সততা থেকে শিক্ষা নিয়ে তরুণ প্রজন্মকে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করতে হবে।

উপাচার্য তাঁর বক্তৃতায় আরও উল্লেখ করেন, শেরে বাংলা চাইলে তৎকালীন সময়ে একাধিক পরগণার জমিদারি ভোগ করে আরাম-আয়েশে জীবন কাটাতে পারতেন। সেকালের অন্যান্য জমিদাররা যখন ইংরেজদের তোষামোদ করে নিজেদের জমিদারি টিকিয়ে রাখতেন, তখন তিনি সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও অধিকার আদায়ে আন্দোলন ও সংগ্রাম করেছেন। অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও ব্যক্তিগত জীবনে তিনি কোনো বিত্ত-বৈভব বা অবৈধ সম্পদ অর্জন করেননি। তাঁর এই নির্লোভ ও সৎ চরিত্রের কারণেই দীর্ঘ বছর পরেও মানুষ তাঁকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। বিজ্ঞানের জগতে নিউটন বা আইনস্টাইনের মতো প্রতিভাবান ব্যক্তিরা যেমন বিরল, রাজনৈতিক অঙ্গনে শেরে বাংলার মতো ক্ষণজন্মা ও শক্তিশালী মেধার মানুষও তেমনি বিরল।

ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনাকারী তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে উপাচার্য বলেন, শেরে বাংলার আদর্শ পুরোপুরি না হলেও সাধ্যমতো যেন তাঁর সততা, নিষ্ঠা এবং মানুষের জন্য নিবেদিতপ্রাণ হওয়ার গুণগুলো সবাই অনুসরণ করে। তাঁর দর্শনের মূল কথাই ছিল—"হিংসার পরিবর্তে হিংসা নয়, ভালোবাসা দিয়ে সবকিছু জয় করা।" এই সুমহান আদর্শকে ধারণ করতে পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেশকে একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আলোচনা সভা শেষে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


মো.ফয়সল মাহমুদ 

উপপরিচালক (জনসংযোগ)